• রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ফোন ছিনতাই ধানমন্ডিতে, উদ্ধার গুজরাট থেকে

অনলাইন ডেক্স / ৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ মে, ২০২৪

ধানমন্ডির এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে রিকশায় ৮ নম্বর রোড দিয়ে এক আত্মীয়র বাসায় যাচ্ছিলাম। রাস্তার এক পাশে ছিল একটি বটগাছ। জায়গাটা ছিল কিছুটা অন্ধকার। রাস্তায় হালকা যানজট থাকায় রিকশাটি একটু আস্তে যাচ্ছিল। ঠিক এমন সময় হেলমেট পরা দুজন মোটরসাইকেল আরোহী রিকশার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, বেশ ধীরগতিতে। জন্মদিন উপলক্ষে প্রিয়জনের কাছ থেকে পেয়েছিলাম স্যামসাংয়ের এস২৩ আলট্রা। এত কিছু চিন্তা না করে ফোনটি স্বাভাবিকভাবেই ডান হাতে আলতোভাবে রাখা ছিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মোটরসাইকেল আরোহীর একজন খুব সহজেই ফোনটি হাত থেকে টান নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তোবা আমার কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী ফান করেছে। কিন্তু না।’

গত বছরের ৭ নভেম্বর মোবাইল ফোন ছিনতাই হওয়ার পর এভাবে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি লিখেছেন দিনাজপুরের ডেপুটি জেলার ফেরদৌস মিয়া। ওই রাতেই ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এরপর ফোনটি দেশের ভেতর নয়, উদ্ধার হয়েছে ভারতের গুজরাট রাজ্য থেকে।

ঢাকা থেকে ছিনতাই কিংবা চুরি হওয়া অসংখ্য মোবাইল ফোন প্রতিনিয়ত এ দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ভারতে। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে চুরি-ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন পাচারের লাভজনক বাণিজ্য।

এরপর তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি নিজেই ইন্টারনেট ঘেঁটে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার, দিল্লির হাইকমিশন ও ঢাকার হাইকমিশনের ই-মেইল ঠিকানা জোগাড় করে নিজের পরিচয়সহ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ফোনের লোকেশনের স্ক্রিনশট ও জিডির কপি পাঠিয়ে নিজের ফোনটি উদ্ধারের অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তার জন্য তিনি নিজেও প্রস্তুত ছিলেন না।

এর মাঝে পেরিয়ে গেল আড়াই মাস। হঠাৎ ১ মার্চ ভারতের গুজরাটের আমরেলি থানা থেকে তাকে জানানো হয়, তার হারিয়ে যাওয়া ফোনটি পাওয়া গেছে। এরপর গুজরাট পুলিশ কুরিয়ারের মাধ্যমে সেই ফোন গত ২৩ মার্চ পাঠায় বাংলাদেশে। অবশেষে হারিয়ে যাওয়া শখের ফোনটি হাতে পেয়ে আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে যান ডেপুটি জেলার ফেরদৌস।

ছিনতাই হওয়ার পর ফোনটি ফেরত পাওয়ার আশা তিনি ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হাল না ছেড়ে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে চেষ্টার পাশাপাশি ভারতীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতার ফলে হারিয়ে যাওয়া শখের ফোনটি ফিরে পেতে সফল হন। সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুজরাট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।

এক দেশের মোবাইল ফোন পাচার হয়ে যদি অন্য দেশে চলে যায়, তাহলে অপারেটর পাল্টে যাওয়ায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো আর দেশীয় ট্র্যাকিং সিস্টেমে ধরা পড়ে না। সে ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু অ্যাপসের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া পণ্যের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। তবে যেকোনো পণ্যদ্রব্য পাচার একটি আন্তর্দেশীয় অপরাধ। কেউ এমন দুর্দশার শিকার হলে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার সহযোগিতা নিয়ে হারিয়ে যাওয়া পণ্যদ্রব্য উদ্ধারের সুযোগ রয়েছে।

ডেপুটি জেলার ফেরদৌস মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না গুজরাটের একজন পুলিশ ফোন ফেরত দেওয়ার জন্য ফোন করেছে। আমার কুরিয়ার ঠিকানা চাইল, দিয়ে দিলাম। ফোন হাতে পাওয়ার পর খুব ভালো লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো রকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ফোনটি এখন ব্যবহার করছি। শুকরিয়া আদায় করছি মহান আল্লাহতায়ালার। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সব শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।


এজাতীয় আরো সংবাদ
https://slotbet.online/